Slider

রংপুর

রংপুর জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল ও বিভাগীয় শহর।
ভৌগোলিক সীমানা:
রংপুর জেলা ২৫৹০৩˝থেকে ২৯৹৩২˝ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত । মোট আয়তন ২৩০৮ বর্গ কিমি । আটটি উপজেলা, ইউনিয়ন ৩৮টি, ১৪৫৫টি মৌজা এবং ১ টি সিটি কর্পোরেশন৩টি পৌরসভা নিয়ে রংপুর জেলা গঠিত।রংপুর জেলার উত্তরে লালমনিরহাট ও তিস্তা নদী, দক্ষিণে গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলা, পূর্বে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলা এবং পশ্চিমে দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলা অবস্থিত।তিস্তা নদী উত্তর ও উত্তর পূর্ব সীমান্তকে লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রাম জেলা থেকে আলাদা করেছে।
রংপুর জেলাকে বৃহত্তর বঙ্গপ্লাবন ভূমির অংশ মনে করা হয়। কিন্তু ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর গঠন দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আলাদা। এ জেলার ভূগঠন অতীতে উত্তরাঞ্চল প্রবাহমান কযয়েকটি নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ভূকম্পনজনিত ভুমি উত্তোলনের সাথে জড়িত। তিস্তা নদীর আদি গতিপথ পরিবর্তন ছিল রংপুর জেলার ভূমি গঠনের ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদী ১৭৮৭ সালের পূর্বে গঙ্গানদীর একটি উপনদী ছিল। তিস্তা সিকিম বা হিমালয়ে পরিচিত রাংগু ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত দিনাজপুর জেলার নিকট আত্রাই এর সাথে মিলিত হয়ে নিম্ন গঙ্গা নদীতে পতিত হতো। ১৮শ শতকে তিস্তা, আত্রাই নদীর পথ ধরে গঙ্গা ও বিছিন্ন কিছু খাল বিলের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র, উভয় কিছু নদীর সাথে ঋতু ভিত্তিক সংযোগ করত। অপর নদী ধরলা তিস্তা থেকে নিম্ন হিমালয় অঞ্চল বৃহত্তর রংপুর জেলার পূর্ব দিক দিয়ে (বর্তমান কুড়িগ্রাম) ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। ঘাঘট এ জেলার অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ নদ । ঘাঘট তিস্তার গর্ভ থেকে উৎপন্ন হয়ে রংপুর জেলার মধ্য দিয়ে দক্ষিণে গাইবান্ধা জেলা অতিক্রম করে করতোয়া নদীতে পতিত হয়। আত্রাই নদী এ সময় করতোয়া ও গঙ্গার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করত।
প্রশাসনিক এলাকাসমূহ:
রংপুর জেলায় ৮টি উপজেলা রয়েছে; এগুলো হলোঃ
• কাউনিয়া,
• গংগাচড়া,
• তারাগঞ্জ,
• পীরগঞ্জ,
• পীরগাছা,
• বদরগঞ্জ,
• মিঠাপুকুর এবং
• রংপুর সদর।
নামকরণের ইতিহাস:
নামকরণের ক্ষেত্রে লোকমুখে প্রচলিত আছে যে পূর্বের ‘রঙ্গপুর’ থেকেই কালক্রমে এই নামটি এসেছে। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে উপমহাদেশে ইংরেজরা নীলের চাষ শুরু করে। এই অঞ্চলে মাটি উর্বর হবার কারনে এখানে প্রচুর নীলের চাষ হত। সেই নীলকে স্থানীয় লোকজন রঙ্গ নামেই জানত। কালের বিবর্তনে সেই রঙ্গ থেকে রঙ্গপুর এবং তা থেকেই আজকের রংপুর। অপর একটি প্রচলিত ধারণা থেকে জানা যায় যে রংপুর জেলার পূর্বনাম রঙ্গপুর। প্রাগ জ্যোতিস্বর নরের পুত্র ভগদত্তের রঙ্গমহল এর নামকরণ থেকে এই রঙ্গপুর নামটি আসে। রংপুর জেলার অপর নাম জঙ্গপুর । ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব থাকায় কেউ কেউ এই জেলাকে যমপুর বলেও ডাকত। তবে রংপুর জেলা সুদুর অতীত থেকে আন্দোলন প্রতিরোধের মূল ঘাঁটি ছিল। তাই জঙ্গপুর নামকেই রংপুরের আদি নাম হিসেবে ধরা হয়। জঙ্গ অর্থ যুদ্ধ, পুর অর্থ নগর বা শহর। গ্রাম থেকে আগত মানুষ প্রায়ই ইংরেজদের অত্যাচারে নিহত হত বা ম্যালেরিয়ায় মারা যেত। তাই সাধারণ মানুষ শহরে আসতে ভয় পেত। সুদুর অতীতে রংপুর জেলা যে রণভূমি ছিল তা সন্দেহাতীত ভাবেই বলা যায়। ত্রিশের দশকের শেষ ভাগে এ জেলায় কৃষক আন্দোলন যে ভাবে বিকাশ লাভ করে ছিল তার কারণে রংপুরকে লাল রংপুর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি:
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ রংপুর সদর উপজেলার গুপ্তপাড়ায় পাকবাহিনী হত্যা ও লুটতরাজ চালায়। ২৮ মার্চ মিঠাপুকুর উপজেলার লোকেরা ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণ করে। এতে বহু লোক হতাহত ও নিহত হয়। পাকবাহিনী এ উপজেলায় ব্যাপক গণহত্যা ও লুটতরাজ চালায়। এর মধ্যে পায়রাবন্দ ইউনিয়নের জয়রাম আনোয়ার মৌজার গণহত্যা উল্লেখযোগ্য। ১ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধারা কাউনিয়া উপজেলার ওসিকে গুলি করে হত্যা করে। ১৩ এপ্রিল পীরগঞ্জ উপজেলার নব্দীগঞ্জ নামক স্থানে পাকবাহিনী ১১ জন বাঙালী ইপিআর সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ১৭ এপ্রিল বদরগঞ্জ উপজেলায় পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা ব্যাপক গণহত্যা চালায় এবং খালিসা হাজীপুর, বুজরুক হাজীপুর, ঘাটাবিল, রামনাথপুর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা অনুযায়ী ৩০ শে এপ্রিল কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থনরত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন রায়, অধ্যাপক ব্যোম কৃষ্ণ অধিকারী, অধ্যাপক সুনীল চন্দ্র চক্রবর্তীদের রাতের অন্ধকারে নির্মমভাবে হত্যা করে দমদম ব্রিজের পাশে এক বাঁশঝাড়ে গণকবর দেয়। এছাড়া অধ্যাপক কালাচাঁদ রায় ও তার স্ত্রী, অধ্যাপক মো আব্দুল রহমান, অধ্যাপক শাহ সোলায়মান আলী সহ অনেক ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করা হয়। এ সময় হানাদার বাহিনীর নির্যতনের কেন্দ্রস্থল ছিল রংপুর টাউন হল। ২৮ জুন ২ জন পাকসেনা কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা ব্রিজের কাছের গ্রামে ঢুকে নারী ধর্ষণের চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তাদের হত্যা করে। এরই জের ধরে পাকবাহিনী ৩০ জুন গ্রামে ঢুকে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে প্রায় ২০০ নিরীহ লোক নিহত হয়। আগস্ট মাসে পাকসেনারা তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের দাড়ার পাড় গ্রামের কয়েকজনকে আটক করে এবং পরে হত্যা করে। অক্টোবর মাসে গঙ্গাচড়া উপজেলার শঙ্করদহ গ্রামের তালতলায় মুজিব বাহিনীর গেরিলাদের সঙ্গে পাকবাহিনীর এক লড়াইয়ে ২ জন পাকিস্তানি সৈন্য ও ৫ জন রাজাকার নিহত হয়। পাকবাহিনী এ উপজেলার তালতলা মসজিদে ঢুকে ১৭ জন মুসল্লীকে হত্যা করে। ২ ডিসেম্বর পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের মনুরছড়ায় পাকসেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের এক লড়াইয়ে ১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও ২ জন পাকসেনা আহত হয়। ৩ ডিসেম্বর তারাগঞ্জ উপজেলার যমুনেশ্বরী নদীর উপর বরাতি ব্রিজে এক গণহত্যা সংঘটিত হয়। ১৩ ডিসেম্বর গঙ্গাচড়া থানায় ২১২ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে। ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল।মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বধ্যভূমি ১০ (দহিগঞ্জ শ্মশান, ঘাঘট নদীর পূর্বতীর, বালার দীঘি (ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন), ঘাঘট নদীর ব্রিজের নীচে, লাহিড়ীর হাট (বদরগঞ্জ সড়ক সংলগ্ন), দমদমা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা (মিঠাপুকুর উপজেলা), সাহেবগঞ্জ, নব্দীগঞ্জ, ঝাড়ুয়ার বিল (বদরগঞ্জ উপজেলা), দমদমা বাজার, ঝিনুক সিনেমা হলের পেছনে); গণকবর ৪ (দমদমা ব্রিজ, দমদমা বাজার (মিঠাপুকুর উপজেলা), আংরার ব্রিজ, মাদারগঞ্জ বাজার (পীরগঞ্জ উপজেলা); ভাস্কর্য ১ (অর্জন)।
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৪১.৯১%; পুরুষ ৪৬.৫%, মহিলা ৩৭.০৬%। বিশ্ববিদ্যালয় ১, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ১, কলেজ ৬৫, মেডিক্যাল কলেজ ১, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ২, ক্যাডেট কলেজ ১, পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ১, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ১, আইন কলেজ ১, হোমিওপ্যাথ কলেজ ১, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩২০, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১১৬৬, কমিউনিটি স্কুল ২০, কিন্ডার গার্টেন ২৫, স্যাটেলাইট স্কুল ৪৪, সংগীত বিদ্যালয় ১, এনজিও স্কুল ১৯৩, মাদ্রাসা ৩৭০। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (২০০৮), রংপুর কারমাইকেল কলেজ (১৯১৬), সরকারি বেগম রোকেয়া মহিলা কলেজ (১৯৬৪), রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (১৯৬৬), শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় (১৮৫৮), রংপুর ক্যাডেট কলেজ (১৯৭৭), রংপুর জিলা স্কুল (১৮৩২), রংপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় (১৮৭৬), কৈলাশরঞ্জন হাইস্কুল (১৯১৩)।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৬২.৯৯%, অকৃষি শ্রমিক ৪.৬৬%, শিল্প ১.১১%, ব্যবসা ১৩.২৮%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৩.৯%, নির্মাণ ১.১৮%, ধর্মীয় সেবা ০.২%, চাকরি ৬.৩২%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.২% এবং অন্যান্য ৬.১৬%।
পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী দৈনিক: দাবানল (১৯৮০), যুগের আলো (১৯৯২), রংপুর (১৯৯৭), পরিবেশ (১৯৯৪), আখিরা, অর্জন; সাপ্তাহিক: অটল (১৯৯৯), সাপ্তাহিক রংপুর (১৯৯৬), রংপুর বার্তা (১৯৯৬), বজ্রকণ্ঠ (পীরগঞ্জ); অবলুপ্ত: রঙ্গপুর বার্তাবহ (১৮৪৭), রঙ্গপুর দর্পণ (১৯০৭), রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা (১৯০৫), রঙ্গপুর দিক প্রকাশ (১৮৬১), উত্তর বাংলা (১৯৬০), প্রভাতী (১৯৫৫)।
লোকসংস্কৃতি পালাগান, যোগীর গান, উপাখ্যান, ছোকরা নাচানী গান, গাছের বিয়ের গীত, ব্যাঙ বিয়ের গীত, গোয়ালীর গান, হুদুমার গীত, পুঁথিপাঠ, পালাগান, লালন গীতি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, হাসন রাজার গান, আববাসউদ্দিনের গান, মুর্শিদি, মারফতি, দেহতত্ত্ব, মন্দিরে হরিসভা, ছড়া, কথা, প্রবাদ, প্রবচন।
দর্শনীয় স্থান তাজহাট জমিদার বাড়ী (রংপুর সদর), পীরগাছা জমিদার বাড়ী, ফণীভূষণ মজুমদারের জমিদার বাড়ি, পায়রা চত্তর, ভাঙ্গনি মসজিদ, মিঠাপুকুর মসজিদ, চন্ডীপুর মসজিদ, কেরামতিয়া তিন গম্বুজ মসজিদ (রংপুর), ত্রিবিগ্রহ মন্দির, ভিন্ন জগৎ বিনোদন পার্ক, শাহ ইসমাইল গাজীর (রহ.) দরগাহ (কাটাদুয়ার), পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র (মিঠাপুকুর)।

 

অর্থনীতি:
রংপুর অঞ্চলকে তামাকের জন্য বিখ্যাত বলা হয়।এখানে উৎপাদিত তামাক দিয়ে সারা দেশের চাহিদা মেটানো হয়। রংপুরে প্রচুর পরিমাণ ধান-পাট-আলু ও আম (হাড়ি ভাঙ্গা) উৎপাদিত হয়। যা স্থানীয় বাজার তথা সারাদেশের বাজারে সমান হারে সমাদৃত।

শিল্পপ্রতিষ্ঠান:
রংপুর জেলার কেল্লাবন্দ নামক স্থানে বিসিক শিল্প নগরী গড়ে উঠেছে। সেখানে বিভিন্ন ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে। যেমনঃ আর,এফ,এল লিঃ,প্রাইম সনিক গ্রুপ, মিল্ক ভিটা বাংলাদেশ,আরডি মিল্ক, বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজ। এছাড়া হারাগাছ নামক স্থানে বিড়ি (সিগারেট) তৈরির একাধিক কারখানা। রংপুর শহরের আলম নগর নামক স্থানে আছে আর, কে ফ্যান কারখানা। বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর নামক স্থানে গড়ে উঠেছেঃ শ্যামপুর চিনিকল লিমিটেড, রংপুর ডিষ্টিলারিজ এন্ড কেমিক্যাল কোঃ লিঃ।
প্রকাশনা সংস্থা (অমর একুশে গ্রন্থমেলার তালিকাভুক্ত) (১টি)
• আইডিয়া প্রকাশন (প্রতিষ্ঠাকাল ২০০৮), অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এ অঞ্চলের সৃজনশীল বই প্রকাশে বিশেষ অবদান রাখছে। এবং সংস্থাটি এ অঞ্চলের পক্ষে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী একমাত্র প্রকাশনা সংস্থা।

লিটলম্যাগ অথবা সাহিত্যপত্রিকা:
• নতুন সাহিত্য
• ফিরেদেখা [বাংলা সাহিত্যের কাগজ] (২০ অক্টোবর ২০১৩)
• রংপুর সাহিত্যপত্র
• সূচনা সাহিত্যপত্র
• শব্দ
• অঞ্জলিকা সাহিত্যপত্র
• মৌচাক
• পেন্সিল
• দুয়ার
• রঙধনু
• ঐতিহ্য
• শিল্পাচল
• সূত্রপাত
• সাহিত্যমঞ্চ

পত্র-পত্রিকা:
দৈনিক[২]:
• দাবানল (১৯৮০)
• যুগের আলো (১৯৯২)
• পরিবেশ (১৯৯৪)
• রংপুর (১৯৯৭)
• রংপুর ক্রাইম নিউজ (২০০৫)
• আরসিএন২৪বিডি ডটকম (২০০৭)
সাপ্তাহিক
• অটল (১৯৯১)
• রংপুর বার্তা (১৯৯৬)
• অবলুপ্ত: রঙ্গপুর বার্তাবহ (১৮৪৭)
• রঙ্গপুর দর্পণ (১৯০৭)
• রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা (১৯০৫)
• রঙ্গপুর দিক প্রকাশ (১৮৬১)
• উত্তর বাংলা (১৯৬০)
• প্রভাতী (১৯৫৫)
• সাপ্তাহিক রংপুর (১৯৯৬)
• বজ্রকণ্ঠ (পীরগঞ্জ)

চিত্তাকর্ষক স্থান:

1. কারমাইকেল কলেজ,
2. তাজহাট রাজবাড়ী,
3. ভিন্নজগত,
4. রংপুর চিড়িয়াখানা,
5. পায়রাবন্দ,
6. ঘাঘট প্রয়াস পার্ক,
7. চিকলির পার্ক,

মিঠাপুকুর উপজেলার রানিপুকুর ও লতিবপুর ইউনিয়নের নিঝাল, ভিকনপুর, মামুদপুর তিন গ্রামের সীমানায় অবস্থিত মোঘল আমলের “নির্মিত তনকা মসজিদ”। একই উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের ফুলচৌকির মোঘল আমলের নির্মিত মসজিদ, সুড়ুং পথ, শালবনের ভিতরের মন্দির, সহ অনেক পুরাতন স্থাপনা আছে এই গ্রামে।

শিক্ষা:

শিক্ষা ব্যবস্থার দিক থেকে রংপুর জেলা প্রাচীন কাল থেকেই বাংলাদেশের একটি অন্যতম জেলা। এখানে গড়ে উঠেছে অনেক প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই জেলায় ২৮২টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭২২ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৮টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৯৩টি বেসরকারী সংস্থা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত বিদ্যালয় এবং ৩২০টি মাদ্রাসা। তারমধ্যে অনতম্য হলঃ রংপুর জিলা স্কুল, রংপুর ক্যাডেট কলেজ, কারমাইকেল কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ, শিশু নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়, কৈলাশ রঞ্জন স্কুল, রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বিয়াম স্কুল এন্ড কলেজ, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, আফান উল্লাহ স্কুল, রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সমাজকল্যাণ বিদ্যাবিথী , রংপুর মেডিকেল কলেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি।

চিকিৎসা সুবিধা:
রংপুর বিভাগ এর মধ্যে রয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ। এটি একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ। অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে রয়েছে শিশু হাসপাতাল, বক্ষ হাসপাতাল ও কলেরা হাসপাতাল। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে রয়েছে ক্রিস্টিয়ান মিশনারি হাসপাতাল, রংপুর ডেন্টাল কলেজ, প্রাইম মেডিকেল, ডক্টরস ক্লিনিক এবং কিছু বেসরকারি মেডিকেল কলেজ।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব:
• হেয়াত মামুদ, মধ্যযুগের কবি
• বেগম রোকেয়া, বাংলার মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত
• আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ও ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি
• লেফটেন্যান্ট জেনারেল আলহাজ্ব পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও ষষ্ঠ সেনাপ্রধান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
• এম এ ওয়াজেদ মিয়া, খ্যাতনামা পরমাণু বিজ্ঞানী
• মোহাম্মদ খেরাজ আলী, খাতুনিয়া সার্কুলেটিং লাইব্রেরি, রংপুরের প্রতিষ্ঠাতা
• ড. রেজাউল হক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ
• মোতাহার হোসেন সুফী, সাহিত্যিক
• মুহম্মদ আলীম উদ্দীন, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ
• প্রফেসর এমদাদুল হক মো. মতলুব আলী , সাবেক ডিন, চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শিল্প সমালোচক, চিত্রশিল্প ও গীতিকার
• আনিসুল হক, লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক
• নাসির হোসেন,বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার
• সানজিদা ইসলাম,বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সদস্য
• মাহবুব আলম, সাহিত্যিক
• রফিকুল হক, ছড়াকার, সাংবাদিক
• চৌধুরী খালেকুজ্জামান , মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, আয়কর আইনজীবি, সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ।
• খান বাহাদুর শাহ্ আব্দুর রউফ, সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ
• জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান, ১১তম সেনা প্রধান, বাংলাদেশ সেনা বাহিনী

============ তথ্য সংগ্রহ উইকিপিডিয়া এবং বাংলাপিডিয়া থেকে ==============

রংপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান ঢাকা বিভাগ: নরসিংদী, গাজীপুর, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর চট্টগ্রাম বিভাগ: কুমিল্লা, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান রাজশাহী বিভাগ: সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ খুলনা বিভাগ: যশোর, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ সিলেট বিভাগ: সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড়, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, কুড়িগ্রাম ময়মনসিংহ বিভাগ: শেরপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা বরিশাল বিভাগ: ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা

error: Content is protected !!